শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

শরতের আহবান -ফাতেমা রহমান

আয় আয় সখা- সখি
কে কোথায় আছিস তোরা।
শুভ্র কাশেরা কানে কানে বলে
মনে আছে যত দ্বন্দ্ব, গ্লানি
সব এবার কর সারা।
শরৎ এসেছে,শুভ্র সতেজ
হাত ছানিতে ডেকেছে
তবে দাওনা সাড়া।
শিউলি ফুলের মৌ মৌ গন্ধে
স্বর্গ রাজ্য এখন ধরা।
নীল আকাশে সাদা
মেঘেরা করছে খেলা
কী এক আনন্দ বন্যায়
চৌদিকে সকলে দিশেহারা।

স্মৃতি - কবি ফাতেমা রহমান

তোমার আমার গন্তব্যস্থল
সেই যে কৃষ্ণচূড়ার তল।
বনফুল কুড়িয়ে শত শত
আনন্দ উচ্ছ্বাসে আকুল হয়েছি কত!!
শ্যামলিমায় ঘেরা সেই বন পথ
হয়েছে কালের সাক্ষী সম্মত।
কতদিন হয়নিকো দেখা
হৃদয় পাতায় হাজার স্মৃতি আঁকা।
কথার মালারা ঘুরপাক খায়।
সময়তো ফুরায়ে সময়ের চাকায়।
তবু দেখা আর অদেখা তুমি,আমি দূরে নই
মনের গহীনে খুব কাছাকাছি রই।
অতি ক্ষুদ্র এ মানব জীবন
নিষ্পাপ ভালোবাসা বেঁচে চিরন্তন।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

ফেরারী আঁধার -কবি নুরুন নাহার আক্তার বকুল

আলোক পৃথিবীটা থমকে আসছে হয়তো,
বিচ্ছুরিত ভূবন ফেরারী আঁধারে যেনো ঢাকে।
চশমার ফ্রেম গুলোও খুব ভারি বোধ হয়,
শব্দের অক্ষরগুলো যেনো কালো বিন্দু বিন্দু!
চোখের সামনে অযথাই ঢেউ খেলে সদা সমীরণ,
ভূ-কম্পনে ঝাঁকিয়ে দেয় আশেপাশের সব চেনাদিক!
সোনালি আভারা কেনো এমন মেঘে মেশে যায়,
কেনো ঝরাতে আসেনা আর অশ্রু বারিধারা!!
স্বপ্নেরা যেথা ডানা জাপটে আশা নাচন খেলে,
অন্তঃক্ষরণগুলো যেনো দোলে নিরাশার দোলাচলে!
তবু আশাহত হতে শিখেনা এই দগ্ধ হৃদয় সম,
আজও স্বপ্নবুননে ক্ষান্ত করার সাধ্যাতীত সে!
আঁধারে ঢাকা এই চোখে আলোক বিলিয়েছে,
কতো স্বপ্ন বোনেছে আর যতনে গড়েছে কচিপ্রাণ!
তোমাদের চোখ যখন উচ্চ শিখরে চড়ায় সাধে,
তার চোখ তখন বিলায় আপনারে জগতময়!
যখন তোমরা আপন সুখ ভোগে মত্ত্ব থাকো,
ওচোখ তখন নির্ঘুম অশ্রুধারায় ভেসেছে।
শিকল পরাবার ছলে বাঁধন জড়িয়েছো তারে,
সত্যিকারের সুখ আদৌ পেয়েছো হৃদভূমে!
সমাধি হোক তব আঁধার আসার আগে,
জমুক বুনো ফুলেরা সেথা আপন ভালবাসায়।
পুষ্পেরা হেসে হেসে রবির আলোয় নাচবে যবে,
এসো নাহয়,, দু'ফোঁটা বারি ঝরায়ে হাসবে একা!
নিঃসঙ্গ হাহাকারে নির্বিচারগুলো রেখো গুটিয়ে,,
যা তুমি করেছিলে দান,ভালবাসার অভিনয়ে!
যে আলো প্রজ্জ্বলিত হাজারে কচি ও শুভ্র প্রাণে,,
খোদা তুমি সে আলো দিও না'কো নিভিয়ে!
নিঃশ্বাসে নিঃশেষ অবগাহনে ভেবে যাই আনমনে,
একফোঁটা অশ্রুও যেনো অভিশাপ হয়ে নাহি ঝরে!
স্বপ্নেরা এসো আলিঙ্গনে, ভালবাসার কঠিন দ্বারে,,
আলো নিয়ে ফিরবো হয়তো আবার আঁধার ভূবনে!!

রবিবার, ২৪ মে, ২০২০

সেকালের ঈদ - কবি মোক্তার আহমেদ ,সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

একদা আমারও ঈদ আসিত মহানন্দে,
চোখে নিদ্রা নাহি আসিত জাগিতাম সানন্দে।
পিতার কাছে ধরিতাম বায়না নতুন জামা চাই,
বর্গাচাষি পিতা শূন্য হস্তে থাকিত নিরুপায়।
সেকালে ছিলাম মোরা চারি ভাই বোন,
কষ্টে পিতা যোগাত ডাল, ভাত আর নুন।
প্রতিবেশী সবাই যখন পড়িত বস্ত্র নতুন,
ভাই বোন মোরা আফসোসিতাম কত শত গুন।
পিতা যখন হাটে যাইত থাকিতাম উদগ্রীব,
কখন আসিবে পিতা, জ্বালাইয়া রাখিতাম প্রদীপ।
রিক্ত হস্তে পিতা যখন আসিত ঘরে ফিরি,
উপোস থাকিতাম মোরা পিতার সহিত অভিমান করি।
শয়ন কক্ষে মাতা-পিতা কষ্টে করিত প্রলাপ,
একদা তাহাদের সংলাপ হেরিয়া, হইলাম অনুতাপ।
সেইদিন হইতে করিলাম পণ, হইব বড় মস্ত,
সমগ্র অপূর্ণরে করিয়া দূর পূর্ণিব পিতার হস্ত।
বড় হইবার বাঞ্চ্ছা নিয়া পাঠ করিলাম শুরু,
একে একে পাঠ চুকাইয়া হইলাম শিক্ষাগুরু।
একালে আর নাহি মোর অন্ন বস্ত্রের অভাব,
তবু অন্যের লাগিয়া কাদি মন এই মোর স্বভাব

মানুষের মূল্য-কবি মোক্তার আহমেদ,সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

ছোট্ট শিশু পিতাকে করিল প্রশ্ন শত,
জানিবার চাহিল মানুষের মূল্য কত?
পিতা সন্তানেরে দিতে চাহিল শিক্ষা,
পস্থরখন্ডের দ্বারা তাই দিয়াছিল দীক্ষা।
পিতা বলিল পস্থরখানি বিক্রি করিবে বাজারে,
দাম হাকিবে উচাইয়া দুই অংগুলি করে।
প্রথমদিন বাজারে নিইয়াছিল পস্থরখানি,
দুই অংগুলি দেখিয়া ক্রেতা বুঝিল দুইশত পেনি।
দ্বিতীয় দিন পস্থর নিয়া গিয়াছিল যাদুঘরে,
কর্তা শোধাইল বিক্রি করিবে কি দুই হাজারে?
তৃতীয়দিন পস্থর লইয়া দেখাইয়তে গিয়াছিল বণিক,
বণিক বার্তায় পস্থরের মূল্য হইবে দুই লক্ষের অধিক।
তিন স্থানের তিন রকমের মূল্য শুনি,
জিজ্ঞাসিল পিতারে বিস্ময়ে শিশুমনি,
একই পস্থরের মূল্য হইল কেন ভিন্ন পেনি?
পিতা শোধাইল মানুষের মূল্য পস্থরেরই মতন,
উপযুক্ত মূল্য পাহিবে, পাহিলে উপযুক্ত জন,
কোথাও তুমি ছাই হইবে, কোথাও তুমি রতন।

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

মহাবিশ্বের রহস্য-কবি মোক্তার আহমেদ,সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

হে মহাবিশ্বের মহারাজ,তুমি বিশ্বভ্রহ্মন্ড করিয়াছ সৃজন,
সৃষ্টির রহস্য তুমি লুকাইয়াছ, করোনি উন্মোচন।
পনের শত কোটি বৎসর পূর্বে মহাবিশ্বকে রাখিয়াছিলে করিয়া অতি পরমাণু,
মহাবিস্ফোরণ ঘটাইয়া সৃজিলে ছায়াপথ আর গ্রহাণু।
সপ্ত নক্ষত্র দিয়া জ্যোতিষ্কমন্ডল গড়িয়াছ এ বিশ্বভ্রম্মান্ডে,
গোল, সর্পিল আর অবয়বহীনে নভশ্চরকে রূপাইয়াছ বাষ্পপিন্ডে।
বেটেলগমকে বৃহৎ করিয়া লুব্ধককে করিয়াছ উজ্জ্বলতম,
ধরণীকে বাসযোগ্য করিতে সূর্য্যিরে করিলে নিকটতম।
জীমূতবিহীন তমসাচ্ছন্ন আকাশে দিয়াছ ঋক্ষমন্ডলী,
কালপুরুষ, ক্যাসিওপিয়া আর দিয়াছ সপ্তর্ষিকুন্ডলি।
ধূলিকণা, নভশ্চর আর বাষ্পকুন্ডে গড়িয়াছ ছায়াপথ,
কসমিক ইয়ার হই প্রয়োজন ঘুর্ণন করিতে রথ।
ধুমকেতুরে করিয়াছ উজ্জ্বল ঝাঁটার ন্যায় দীর্ঘ বাষ্পময়,
হেলবপ নাকি সর্বাধিক উজ্জ্বল কহেন জ্যোতির্ময়।
অষ্ট গ্রহের সৌর পরিবার ঘুরিছে ক্রমাগত,
ধরণী মোদের ঘুরিছে চৌদিক পাহিছে আলোক যত।
সমস্ত শক্তির উৎস করিয়া সূর্য্যিরে করিলে দান,
সূর্য্যির কাছে অন্য সৃষ্টিরে ঋণি করিয়াছ হে মহান।
সূর্য আর ধরনীর মধ্যে চন্দ্র আসিলে ঘটাও অমবস্যা,
পূর্ণিমা তিথি হই ধরণীকে চন্দ্র- সূর্য করিলে গ্রাস্যা।
এই অসীম সৃষ্টির মধ্যে ক্ষুদ্র মোরা, করি অহংকার,
বুঝিবার সাধ্য নাহি মোদের রহস্য তোমার।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

প্রশংসা তোমার-কবি মোক্তার আহমেদ,সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।


 হে অধিপতি মহান, তোমারই স্তুতি বহমান,
আঠারো হাজার সৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠাইয়াছ মানব সন্তান।
অংকুর গরিয়াছ মোদের জনক জননীর ভ্রুণকোষে,
তনু মোদের বাধিয়াছ নিপুণ দীর্ঘ শাসে।
লহু, পলল খাচায় বাধিয়া পাঠাইয়াছ পরবাসে,
পেনি ছাড়া পবন দিয়াছ মোদের ভালবেসে।
দুইশত ছয় কাঠির নির্জীব এই কক্ষে,
পেন্ডুলাম আনতশির করিয়াছ বাঁ বক্ষে।
মর্মদেশ মোদের কম্পিছে আটচল্লিশ হাজার প্রতি ষাটে,
অধিকম্প মোদের গুপ্ত হইলে বিলীন হইব এই হাটে।
জ্ঞাত মোদের দিইয়াছ মস্তিষ্কে করিতে শ্রেষ্ঠ,
সমগ্র সৃষ্টিরে সৃষ্টিলে করিতে মোদের তুষ্ট।
সৃষ্টি তোমার সেবিছে মোদের হুকুমে ক্রমাগত,
মোদের তুমি ফরমাশিলে করিতে মস্তকনত।
ফরমাইয়েশ ভূলিয়া মোরা চাইলাম দুনিয়াদারি,
মন্দ চোরার ফান্দে পড়িয়া করিলাম পুকুর চুরি।
হুকুম তোমার অমান্য করি, পাপ যে পর্বত সমান,
তবু ক্ষমা করিয়া যাও মোদের তুমি রহমান।

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

আমন্ত্রণ-নাসরিন জাহান

আকাশ নেমে এসো নিচে
বেয়ে বেয়ে স্বপ্নের তরী
চল আজ বনে উৎসব করি।
সব সময় উপরে থাকতে
তোমার ভালো লাগে
আমি সবুজে ভরা,
মুখরিত মাটির গন্ধে
কখনো আঁকাবাকা পথ দূরে অংকিত হয়
পাখিরা খুঁজে নেয় সবুজ আলয়।
বুনো ফুলেরা অভিরাম সুভাস দেয়
ঠিক আপনের ন্যায়।
এসো আজ উপভোগ করি
নেমে এসো নিচে
চলো আজ বনে উৎসব করি।
চাঁদ, তারা,সূর্য ছাড়া ও
তোমার দেয়ালে থাকে
কত নামি-দামি নক্ষত্র
আমার সবুজে আছে শুধু সজিবের সৌমিত্র
দিও না কিছু , নিয়ে যেও সবুজের জড়ি
শাল-পিয়ালের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে
চলে যাবে আবারও তারকা রাজির কাছে
যখন ক্রিং ক্রিং করে
বেজে যাবে সময়ের ঘড়ি
আকাশ , নেমে এসো নিচে
চলো আজ বনে উৎসব করি।
আমার কোথাও ঝোপের অন্ধকার
কোথাও বুনো ফুলের চমকপ্রদ বাহারি অলংকার
আকাশ, পিছিয়ে পড়বে সব কবিতার বাণী
প্রিয় দর্শনীই হবে বুনোফুলের রানী।
নেমে এসো নিচে
খুশিতে লুটিয়ে পড়ি
চলো আজ বনে উৎসব করি।।

শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

সংক্ষিপ্ত সফর- কবি মোক্তার আহমেদ,বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

সংক্ষিপ্ত সফর

কবি মোক্তার আহমেদ,বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।


সদা উতলায় রই ঘোর, এই সংক্ষিপ্ত সফর মোর, স্বল্প নিশির সংসার ভ্রমণে যাইতে হইবে বহু দূর। অনন্ত প্রভাতের যাত্রী আমি গন্তব্যের নাহি শেষ, কঠিন দড়িয়া পাড়ি জমাবো বাহনের নাহি রেশ। শুরু মোর হইয়াছিল জনক মস্তিষ্কের ভাঁজারে, জননী মোর ঠাই দিয়াছিল তাহার জঠরে। মন্দহীনে ছিলাম বেশ মাতৃকার উদরে, অশান্ত মন বিদ্রোহীল না থাকিতে কুটরে। দশকাল পর এলাম যখন মুক্ত সমীরণে, দৃষ্টিলাম ভূবন,পাহিলাম চলন মাতৃবিহনে। ইন্দন, বারি, মৃত্তিকা এই ত্রয়ের বন্ধনে, নিশি মোর শুরু হইল ক্ষুদার আলিংগনে। মধ্য নিশি হেলায় ফুরাইল নবীন যৌবনে, লৌহ বিদুৎ বহিল অংগে গহীন শব্দহীনে। কনীনিকায় নামিল কামলালসা লাবন্য বদনে, বিমুখ হইলাম রাজধিরাজের মন্দের কারণে। প্রান্ত নিশি আসিলে মোর তনু হইলে আবল্য, চেতনা জাগৃল অন্তরে ক্ষয়িতে নিশি কল্য। দ্বিপ্রহরে জাগৃত আমি চাহি মনিবের অনুকূল্য, মনিব সুধায় একে দিলাম সত্তর হইবেনা সমতূল্য। নিশির প্রান্তে শূন্য হীয়ায় কাকুতি অজরে, প্রভাতের ঝুলি মোর রইল অসার, এই সংক্ষিপ্ত সফরে।

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

শীতের ভোর - ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

 শীতের ভোর

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ 


হাড় কনকন শীত পড়েছে,
ভীষণ লাগে ‍ঠাণ্ডা,
ভোর-বিহানে সুবাস ছড়ায়,
খেজুর রসের ঘ্রাণটা।

খেজুর রসের গরম পায়েস
ভারি মজার নাস্তা,
রসের লিটার খুব দাম নয়,
কিনতে অনেক সস্তা।

রোদের ঝিলিক একটু খানি
যেথায় এসে পরে,
বুড়া-বুড়ি ,নাত-নাতনীরা
এসে সেথায় ভীড়ে।

মুড়িওয়ালা হাঁক ছাঁড়ে 
খৈ লাগবে খৈ খৈ,
নয়া ধানে টুকরি ভরি,
তাই দিয়ে খই লই।
আমন ধানের মাড়া হতে
ভেসে আসে ঘ্রাণ,
নতুন ধানের পিঠা খাবো
উঠলো নেচে প্রাণ।       

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

মায়ের শূণ্যতা - ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

 মায়ের শূণ্যতা

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ


মা জননী নেই বাবুলের এই দুনিয়ার মাঝে,
বাবুল,বাবুল ডাকবে কে আর সকাল-সন্ধ্যা-সাঁঝে।
রাত পোহালে মা জননী তুলতো তারে ডেকে,
শিয়রে বসে হাত বুলাত স্নেহের পরশ এঁকে।
ঘুম থেকে উঠে বাবুল দেখত মাকে পাশে,
মায়ের মুখে চাদেঁর হাসি ঝলমলিয়ে ভাসে।
দুধের সর দিত মা চুপিচুপি তারে ডেকে,
চম্ চম্ ভাজা কিনে দিতো ফেরিওয়ালা থেকে।
বলতো বাবুল ,বড় হয়ে মা দিব কিনে শাড়ী,
তোমায় নিয়ে ঢাকা যাব, চড়ব চাকার গাড়ী।
বাবুল এখন বড় মহাজন ঢাকায় বাড়ী গাড়ী,
মা আজ নেই দুনিয়ায় গেলেন সবই ছাড়ি।
থাকলে মা হতেন খুশি পরাণ যেত ভরে,
বুঝবে সে জন বুকের বেদন মা নেই যার ঘরে।

খোকার ইচ্ছা -ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

খোকার ইচ্ছা

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ


নানী বাড়ী যাবে খোকা পালতোলা নায় চড়ে,
সেথায় গিয়ে মিশে যাবে ফুল-পাখিদের ভীড়ে।
পাখির মত পালক-ডানা থাকত যদি তার,
ফুড়ুৎ করে উড়ে গিয়ে হতো নদী পার।
এ বন হতে ও বন যেতো পাখায় করে ভর,
দেখত উড়ে শালিক পাখি কেমনে বাধে ঘর।
হতো যদি প্রজাপতি ঘুরতো ঘাসের বনে,
হাতেম তাঈর কেচ্ছা বলতো ফুলের কানে কানে।
আবার ভাবে হতো যদি নিজেই গোলাপ ফুল,
সুবাস দিয়ে ভোমারাদের করত সে আকুল।
নিজের গায়ে বসতে দিতো সতেজ দলের পিড়ি,
দেখতো কেমনে মক্ষিকারা মধু করে চুরি।
হতো যদি ডলফিন সে কিংবা তিমি মাছ,
দেখতো চেয়ে হাঙর - চাঁদা কেমনে খেলে নাচ।
ফুলপাখিদের ভাল্লাগে তার মন চায় করতে দোস্তি 
ভাল্লাগেনা কারো সনে করতে তার কুস্তি

বুলবুলি- ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ






বুলবুলি

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

বুলবুলি কেওয়ার ঝোঁপে বেধেছে একটি ঘর,
একটুখানি বায়ুর ঝাঁপটায় হয় তা নড়বড়,
তাতেই একদিন স্ত্রী বুলবুলি পারলো চারিডিম,
বাসাখানি অদূর হতে দেখায় টিম টিম।
স্ত্রী বুলবুলি তা’ দেয় তাতে পুং বুলবুলি উড়ে,
ছোট ফড়িং পোকামাকড় ঝাঁপ মেরে ধরে।
আহার এনে দেয় সে স্ত্রী বুলবুলির মুখে,
পরম মমতায় নিজ ডিমগুলো আগলালো যে বুকে।
প্রাত: কালে ঝোঁপের অদূরে বসি আমি রোজরোজ,
আমার দু’চোখ এক পলকে নেয় ওদের খোঁজ।
ওদের দেখে ভাল লাগে মনটা পিয়ে সুখ,
সুযোগ পেলে ওদের দেখে জুড়াই আমার চোখ।
গরমের ছুটি শেষ তাই ফিরলাম আমার স্কুলে,
স্কুল হোষ্টেলে ঘুমে দেখি বুলবুলির ঝোঁপ দোলে
মনটা আমার আনচান করে ফিরে যেতে বাড়ী,
এই বুলবুলিরা আসার কালে হৃদয় রাখলো কাড়ি।
বান এলো তাই বন্ধ স্কুল চলে এলাম বাড়ী,
গিয়ে দেখি মাঠের বুকে স্রোতের গড়াগড়ি,
ডোবার পাড়ে কেওয়ার ঝোঁপ জলের নিচে চাপা,
বুলবুলিদের কথা ভেবে মনটা লাগলো কাঁপা।
অজান্তে মোর আঁখিদ্বয় কান্না করলো শুরু,
কোথায় গেল বুলবুলিরা বলতে কি কেউ পারো?
বাড়ী থেকে খোঁজলাম আমার স্বপ্নের দু’টো পাখি,
খোঁজ পেলামনা ফিরে এলাম আজো কাঁদে আঁখি।

সোমবার, ১১ মে, ২০২০

বৃষ্টি এলো- ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

বৃষ্টি এলো 
ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ 

আকাশটা ঢেকে দিলো কালো মেঘের ভেলা,
সূর্য আর মেঘে মেঘে লুকোচুরি খেলা।
শীতল বায়ু উড়ে এসে গরম নিলো চুষে,
গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছে রাখালেরা রুসে।
ডোরে বাধা ছাগলগুলো করলো ভ্যাঁ ভ্যাঁ শুরু,
ওদেরকে বাড়ি আনতে মাঠে গেল নুরু।
মেঘে মেঘে ঘর্ষণ লেগে বিজলী চমকে উঠে,
ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা নীড়ের দিকে ছুটে।
পুকুর পাড়ে বাধা গরু হাম্বা হাম্বা ডাকে,
ফিরে ফিরে তাকায় তারা আমার মুখের দিকে।
একদৌঁড়ে পুকুর পাড়ে আনতে গেলাম গরু,
দখিন দিকে প্রবলবেগে বৃষ্টি হলো শুরু।
গরুটাকে গোয়াল ঘরের কোণে বাধার কালে,
বৃষ্টির ঝড়ি ধাক্কা দিল মোদের ঘরের চালে।

কাদা-ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

কাদা
ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

বৃষ্টির পানি জমে হয়েছে কাদা,
আজকাল কাদা হলো পথের বাধা।
জামায় কাদা লাগে হাঁটতে গেলে,
কেউ বা পরে যায় পা পিছলে।
শরীরে লেগে যায় কাদার ছিটা,
বন্ধুরা জুড়ে দেয় হাসি ঠাট্টা।
রাস্তায় চলাচলে হয় খুব কষ্ট,
কাদা লেগে সুজুতা হয়ে যায় নষ্ট।
কাদা পথে বেড়ে যায় গাড়ির ভাড়া,
উপায় নেই ও পথে হাঁটা ছাড়া।
খালি পায়ে পথ হেঁটে পায়ে হয় ঘা,
তেমনি কষ্টে চলে মানুষ যেখানে গাঁ।

বৃষ্টি - ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

বৃষ্টি 


ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

দিনভর বৃষ্টি ঝরছেতো ঝরছেই,
জেলেরা নদে মাছ ধরছেতো ধরছেই,
বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট ভরছেতো ভরছেই,
বৃষ্টিতে ভিজে গরু চড়ছেতো চড়ছেই,
ঝরছেই, ধরছেই, ভরছেই ,চড়ছেই,
বৃষ্টির পানি ড্রেন দিয়ে সরছেই।।

গাছের লতা-পাতা দুলছেতো দুলছেই,
কৃষক মাঠে কাজ করছেতো করছেই,
ডানামেলে শালিক উড়ছেতো উড়ছেই,
মিষ্টি সুরে দুয়েল ডাকছেতো ডাকছেই,
দুলছেই, করছেই, উড়ছেই, ডাকছেই,
কালোমেঘের ভেলাগুলো আকাশটা ঢাকছেই।

মাছ ধরা - ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

মাছ ধরা 

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ


দু’দিনের একটানা বৃষ্টিতে জোয়ার উঠেছে মাঠে,
আজ কেন জানি বসেনা মন সকালের পাঠে।
যেদিকে তাকাই পানি আর পানি যেন নূহের প্লাবন,
এমন দিনে বেরুতে বাইরে আছে মায়ের বারণ।
চেয়ে দেখি খালের মুখে জলের গড়াগড়ি,
মহা আনন্দে চলছে সেথায় মাছ ধরাধরি।
বড় কোন মাছ পেলে সবাই হৈ চৈ করে,
মন কি  আর ঘরে রাখা যায়  আজ ধরে?
আমিও জাল নিয়ে গেলাম সেথা ছুটে,
মাছ ধরার মজাটা নিলাম খুব লুটে।
ফিরে এসে মাছগুলো মাকে দিতে গেলাম,
মায়ের  বকা আচ্ছা করে  আজ আমি খেলাম।

বৃষ্টির দিনে - ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

বৃষ্টির দিনে 

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ


বাদলের ধারা অবিরাম ঝরে,
কাজের লোকেরা বন্দী ঘরে।
রাখাল গায় গান মেঠু সুরে
শিশু চুপচুপ মায়ের ক্রোড়ে।
কেউ খেলে দাবা কেউ খেলে লুডু,
খোকা টঙ্গিতে ঘুরায় লাড্ডু।
তসবি জপে তমার দাদী
ছাগল রেখেছে কে বারান্দায় বাধি।
অপু পড়ে গল্প বিছানায় শুয়ে,
খুকী গুণা শিখে চার দুয়ে দুয়ে।

রিমঝিম বৃষ্টি- ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ



রিমঝিম বৃষ্টি 

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ


রিমঝিম সুরে ঝরছে বৃষ্টি, 
মন আজ পেয়েছে দারুণ তুষ্টি,
ঘুমঘুম দু’চোখে বৃষ্টির ছন্দে,
আকাশ দাঁড়িয়েছে কালো মেঘ পিন্দে।
বিজলী যেন তার অঙ্গের গয়না,
ঝলকে কাঁপে মোর পোষা ময়না।
মেঘের হুঙ্কারে জাগে মনে শঙ্কা,
যেন বাজে আসমানে যুদ্ধের ডঙ্কা,
আসমানে তাড়া করে বজ্র শেল
ভয়ে কাঁপে বিছানায় আমার দেল।

বৃষ্টি পরে- ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ

বৃষ্টি পরে

ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ


সূর্যটা ডুবে গেলো,
এলো নেমে সন্ধ্যা।
সাজঁ পাখি ডাকে নাকো,
প্রকৃতি মন্দা।
দিনভর ঝরঝর
বৃষ্টি ঝরছে
সন্ধ্যায় আগকালে
বৃষ্টি থেমেছে।
সন্ধ্যা কেটে গেল,
শুরু হলো রাত্রি,
মেঘমালা আকাশের
ভাসমান যাত্রী।
কাল মেঘ আকাশে
উড়ে উড়ে ভাসছে,
চাঁদটা তার ফাঁকে
মাঝে মাঝে হাসছে।
ক্রমে ক্রমে ভাসা মেঘ
গেল কোথা হারিয়ে,
চাঁদ তার জোসনা
দিল রাতে ছড়িয়ে।

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

শরতের আহবান -ফাতেমা রহমান

আয় আয় সখা- সখি কে কোথায় আছিস তোরা। শুভ্র কাশেরা কানে কানে বলে মনে আছে যত দ্বন্দ্ব, গ্লানি সব এবার কর সারা। শরৎ এসেছে,শুভ্র সতেজ ...